বাংলার যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেকার ভাতা প্রকল্প, যার মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষিত কিন্তু বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা চাকরি খোঁজার সময় আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পায় এবং নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে সময় দিতে পারে। এই প্রকল্পটি ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা এবং তার আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন ক্যাম্পে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী ইতিমধ্যেই নাম নথিভুক্ত করেছেন ।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো বেকার যুবসমাজকে সাময়িক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, যাতে তারা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ট্রেনিং বা অন্যান্য কাজে যুক্ত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় । এই স্কিমে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে এবং সাধারণত এই সুবিধা চাকরি পাওয়া পর্যন্ত বা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে । অনেক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে অর্থ প্রদান শুরু হবে, ফলে মার্চ মাসে আবেদন সম্পূর্ণ হলে প্রথম কিস্তি এপ্রিল বা তার পরবর্তী সময়ে ব্যাংকে জমা পড়তে পারে ।এই প্রকল্পের সুবিধাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিয়মিত মাসিক ভাতা, যা বেকার যুবকদের আর্থিক চাপ কমায় এবং তাদের চাকরি খোঁজার সময় কিছুটা নিরাপত্তা দেয়। এছাড়াও সরকার এই ডাটাবেসের মাধ্যমে বেকার যুবকদের তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতে আরও কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণমূলক প্রকল্প চালু করতে পারে, ফলে এটি শুধু ভাতা নয়, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা রয়েছে, যেমন আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, বয়স সাধারণত ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং অন্তত মাধ্যমিক পাশ হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীকে বেকার হতে হবে এবং অন্য কোনো বড় সরকারি ভাতা স্কিমের সুবিধা না পেলে এই স্কিমে আবেদন করতে পারবেন ।
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়, যেমন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা জন্মতারিখের প্রমাণ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট বা মার্কশিট, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাংক পাসবইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা, কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য হয়), সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং নিজের স্বাক্ষর। এই সমস্ত ডকুমেন্ট সাধারণত নির্দিষ্ট সাইজে PDF বা ইমেজ ফরম্যাটে আপলোড করতে হয় এবং মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশনও করা হয়, কারণ OTP এর মাধ্যমে আবেদন যাচাই করা হয়। আবেদন প্রক্রিয়া দুইভাবে করা যায়—একটি হলো অফলাইনে ‘দুয়ারে সরকার’ বা বিশেষ ক্যাম্পে গিয়ে ফর্ম পূরণ করা, আর অন্যটি হলো অনলাইনে অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে ফর্ম পূরণ করা। প্রথমে নাম, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়, তারপর লগইন করে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত তথ্য এবং ব্যাংক ডিটেইলস পূরণ করতে হয়, এরপর সব ডকুমেন্ট আপলোড করে সাবমিট করতে হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্বাচিত প্রার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হয় ।
সব
মিলিয়ে বলা যায়, বাংলার
যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের বেকার
যুবকদের জন্য একটি বড়
সুযোগ, যেখানে মাসে ১৫০০ টাকা
করে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে এবং এটি
তাদের জীবনে সাময়িক আর্থিক স্থিতি আনতে সাহায্য করবে।
তবে আবেদন করার সময় সমস্ত
তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে এবং
সঠিক ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে, নাহলে
আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।
এই প্রকল্পটি শুধু বেকার ভাতা
নয়, বরং যুব সমাজকে
স্বনির্ভর এবং কর্মক্ষম করে
তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Online Apply বাংলার
যুব সাথী
0 comments: